Wednesday, April 15, 2020

অষ্টম শ্রেণি -সপ্তম পরিচ্ছেদ-বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি

সপ্তম পরিচ্ছেদ

৭.১ বিরামচিহ্ন

৭.২ কমা, সেমিকোলন, কোলন ও হাইফেনের ব্যবহার

৭.৩ কর্ম-অনুশীলন



৭.১ বিরামচিহ্ন

মানুষ একটানা কথা বলতে পারে না। তাই তাকে মাঝে মাঝে থামতে হয়। তা ছাড়া অন্যকে কথাগুলাে বােঝার সময়ও দিতে হয়। লেখার বেলায়ও তেমনি মাঝে মাঝে বিরতি দিতে হয়। কথা থামাতে হয় শ্বাস নেবার জন্য। লেখা থামাতে বাক্যে ব্যবহৃত হয় নানা রকম চিহ্ন বা সংকেত। এই চিহ্ন বা সংকেতই বিরামচিহ্ন। একে যতি বা ছেদ-চিহ্নও বলা হয়ে থাকে। বিরামচিহ্ন ব্যবহারের ফলে বাক্যের অর্থ সুস্পষ্ট হয়।

লিখিত বাক্যে অর্থ সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করে মানুষের আবেগ, অনুভূতি ইত্যাদি ব্যক্ত করার জন্য যে চিহ্নসমূহ ব্যবহার করা হয় তাকে বিরামচিহ্ন বলে।

নিচে বাক্যে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রকার বিরামচিহ্নের নাম, আকৃতি নির্দেশ করা হলাে :

বিরামচিহ্নের নাম              আকৃতি

কমা                                       ,

সেমিকোলন                           ;

দাঁড়ি                                                      

জিজ্ঞাসাচিহ্ন                          ?

বিময়চিহ্ন                               !

কোলন                                   :

কোলন ড্যাশ                           :-

ড্যাশ                                         -

হাইফেন                                   -

উদ্ধণচিহ্ন | উদ্ধৃতিচিহ্ন            “ ”

বন্ধনী চিহ্ন                            (), {}, []

 বিকল্প চিহ্ন                                 /

 ইলেক। লােপচিহ্ন | উৰ্ব্বকমা      '

উল্লিখিত ব্রিামচিহ্নগুলাের মধ্যে কিছু চিহ্ন বক্তার মনােভাবের সমাপ্তি বােঝাতে বাক্যের শেষে বসে। কিছু চিহ্ন বক্তার মনােভাবের অর্থ সুস্পষ্টভাবে বােঝাতে বাক্যের মধ্যে বসে।

বাক্যের শেষে ব্যবহৃত বিরামচিহ্নগুলাে হচ্ছে : দাঁড়ি (।), জিজ্ঞাসাচিহ্ন (?) ও বিস্ময়চিহ্ন (!)।

দাঁড়ি ( | 

বক্তার বা লেখকের মনােভাবের সমাপ্তি বােঝাতে বাক্যের শেষে দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ বসে। যেমন :

                                                 আমরা বাংলাদেশে বাস করি।
জিজ্ঞাসাচিহ্ন (?)

বক্তার মনে কোনাে কিছু জানার আগ্রহ জন্মালে তা জানতে বাক্যের শেষে জিজ্ঞাসাচিহ্ন বা প্রশ্নচিহ্ন বসে।

যেমন :
                                                    তােমার নাম কী?

বিষয়চিহ্ন (!)

বক্তার মনের বিভিন্ন আবেগ যেমন : আনন্দ, বেদনা, দুঃখ, ভয়, ঘৃণা ইত্যাদি প্রকাশ করতে এবং সম্বােধন পদের পরে বিষয়চিহ্ন বা সম্বােধনচিহ্ন বসে। যেমন :

                                                   ১. আহা! কী সুন্দর দৃশ্য।

                                                   ২. মাগাে! তুমি কখন এলে!

বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত বিরাম-চিহ্নগুলাে হচ্ছে : কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), হাইফেন

(-), ড্যাশ (-), ঊধ্বকমা ('), উদ্ধৃতিচিহ্ন (‌‌‌‌‌‌“ ”), বিকল্প চিহ্ন (/)।



৭.২ কমা, সেমিকোলন, কোলন ও হাইফেনের ব্যবহার

কমা (,)

বাক্যে অল্প বিরতি বােঝাতে কমা বসে। নানা প্রয়ােজনে বাক্যে কমাচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যেমন :

১. বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করার জন্য কমা বসে। যেমন :

                              তুমি যাবে, না যাবে না?

                              সুখ চাও, সুখ পাবে পরিশ্রমে।

২. বাক্যে সম্বােধনের পর কমা বসে। যেমন :

                              সেতু, পড়তে বসাে।

                              বিথু, খাবে এসাে।

৩. একই পদের একাধিক শব্দ পাশাপাশি ব্যবহৃত হলে কমা বসে। যেমন :

                               বিশেষ্য : পদ্মা, মেঘনা, যমুনা বাংলাদেশের প্রধান প্রধান নদী।

                               বিশেষণ : সুখ, দুঃখ, আশা, নিরাশা একই মালার ফুল।

                               সর্বনাম : তুমি, আমি ও রবিন বাজারে যাব।

৪. একই ধরনের একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশকে আলাদা করতে কমা বসে। যেমন :

                               শ্রেষ্ঠা ক্লাসে ঢুকল, বই রাখল, তারপর বেরিয়ে গেল।

                              আমাদের কাছে স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, পহেলা বৈশাখ খুবই আনন্দের দিন ।

৫. বাক্যে উদ্ধৃতিচিহ্নের আগে কমা বসে। যেমন :

                             মা বললেন, “অঙ্ক করতে বসাে।”

                             আমি বললাম, “গল্পের বই পড়তেই ভালাে লাগছে।

সেমিকোলন (;)

একাধিক বাক্যের মধ্যে নিকট সম্পর্ক থাকলে তাদের মাঝে যােগসূত্র রক্ষার জন্য সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়। সেমিকোলনচিহ্ন কমার চেয়ে দ্বিগুণ সময় বিরতি নেয়। যেমন :

১. দুটো বাক্যের মধ্যে ভাব বা অর্থের সম্বন্ধ থাকলে সেমিকোলন বসে। যেমন :

                            দিনটা ভালাে নয়; মাঝে মাঝে বৃষ্টি পড়ছে।

                            কথাটা বলা সহজ; করা কঠিন।

২. একাধিক বাক্য সংযােজক অব্যয়ের দ্বারা যুক্ত না হলে সেমিকোলন বসে। যেমন :

                            আগে স্কুলের পড়া; পরে গল্পের বই।

৩. যেসব অব্যয় বৈপরীত্য বা অনুমান প্রকাশ করে, তাদের আগে সেমিকোলন বসে। যেমন :

                           মনোযােগ দিয়ে পড়; তাহলেই ভালাে ফল করবে।

                            ছেলেটি মেধাবী; কিন্তু ভারি অলস।



কোলন (:) 

বাক্যে নানা কারণে কোলনচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যেমন :

১. উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত বােঝাতে ।

                                বাংলা সন্ধি দু প্রকার : স্বরসন্ধি ও ব্যঞ্জনসন্ধি।

২. উভৃতির আগে :

                               রবীন্দ্রনাথ বলেছেন : “মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে।”

৩. নাটকের সংলাপের আগে :

                                দুকড়ি : কী চাই?

                                কাঙালি : আজ্ঞে, মহাশয় হচ্ছেন দেশহিতৈষী।

                               দুকড়ি : তা তাে সকলেই জানে কিন্তু আসল ব্যাপারটা কী?

                               কাঙালি : আপনি সাধারণের হিতের জন্য প্রাণপণ -

হাইফেন (-)

হাইফেনকে বাংলায় সংযােগ চিহ্ন বলা হয়। বিভিন্ন কারণে বাক্যে হাইফেনের ব্যবহার হয়। যেমন :

১. দুটো শব্দের সংযােগ বােঝাতে হাইফেন বসে। যেমন :

                               আমার মা-বাবা বেড়াতে গেছেন।

                               পাপ-পুণ্য, ভালাে-মন্দ বিবেক দিয়ে বুঝতে হয়।

২. সমাসবদ্ধ পদের অংশগুলাে বিচ্ছিন্ন করে দেখাবার জন্য হাইফেন বসে। যেমন :

                               আমাদের প্রীতি-উপহার গ্রহণ করুন।

                              তাদের মধ্যে অহি-নকুল সম্পর্ক।

৩. একই ধরনের শব্দ প্রকাশের ক্ষেত্রে হাইফেন বসে। যেমন :

                             বাংলাদেশ নদ-নদীর দেশ।

                             ঢাকা-খুলনা-বরিশাল এ দেশের বড় শহর।



                                                ৭.৩ কর্ম-অনুশীলন



১. নিচের অনুচ্ছেদগুলােতে বিরামচিহ্ন বসাও :

ক. আমাদের গ্রামের ঘরে ঘরে যে শিকা হাতপাখা ফুলপিঠা তৈরি করা হয় তা মােটেই অবহেলার সামগ্রী নয়

খ. যুবক বলিল কি সে কাজ আমি কি তাহা জানিতে পারি না কৃপা করিয়া আমাকে তাহা জানিতে দাও

অভিন্ন হৃদয় সুহৃদের ন্যায় প্রাণ দিয়াও আমি সে কার্যে তােমার সহায়তা করিব

গ. মুক্তি বলল স্যার বলেছেন আজ ক্লাসে তিনি রবীন্দ্রনাথের ছেলেবেলা নিয়ে গল্প শােনাবেন

আমি বললাম তিনি কি কোনাে বই পড়ে আসতে বলেছিলেন

মুক্তি বলল তুমি গত ক্লাসে আসনি কেন ক্লাস না করলে কত কথা জানা যায় না বুঝেছ

আমি উত্তর দিলাম সে দিন আমি খুবই অসুস্থ ছিলাম

এবার মুক্তি বলল স্যার আজ আমাদের কোনাে বই পড়ে আসার কথা বলে দেন নি


২. বাক্যে কোথায় কোথায় ড্যাশ ও হাইফেন বসে দৃষ্টান্তসহ উপস্থাপন কর।
  • 0Blogger Comment
  • Facebook Comment

Post a Comment