Wednesday, April 15, 2020

অষ্টম শ্রেণি -তৃতীয় পরিচ্ছেদ-বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মি

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

৩.১ সন্ধি

৩.২ বিসর্গ সন্ধি

৩.৩ কর্ম-অনুশীলন


৩.১ সন্ধি 

মানুষ কথা বলার সময় কথার গতি বৃদ্ধি পায়। দ্রুত কথা বলার সময় কখনাে কখনাে দুটো শব্দের কাছাকাছি থাকা দুটো ধ্বনির উচ্চারণ একত্রিত হয়ে যায়। ব্যাকরণে একে সন্ধি বলা হয়। যেমন: “আমি বিদ্যা আলয়ে যাব।' বাক্যটি বলার সময় আমি বিদ্যালয়ে যাব’ হয়ে যায়। এখানে ‘বিদ্যা’-এর ‘আ’-ধ্বনি এবং ‘আলয়’-এর ‘আ’-ধ্বনি মিলে গেছে। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ লিখেছেন : দুটি বর্ণ অত্যন্ত নিকটবর্তী হলে উচ্চারণের সুবিধার জন্য উভয়ের মিলন হয়ে এক বর্ণ বা একের রূপান্তর বা একের লােপ বা উভয়ের রূপান্তর হলে এরূপ মিলনকে সন্ধি বলে। 

এই সংজ্ঞার আলােকে বলা চলে : পাশাপাশি অবস্থিত দুটো ধ্বনির মিলনের ফলে যদি এক ধ্বনি সৃষ্টি হয়, তবে তাকে সন্ধি বলে। 

সন্ধি শব্দের অর্থ মিলন। দুটো ধ্বনির সন্ধিতে প্রথম শব্দের শেষ ধ্বনি এবং পরের শব্দের প্রথম ধ্বনির মিলন ঘটে। সন্ধির ফলে নতুন নতুন শব্দের সৃষ্টি হয়। কথা বলার সময় শব্দের উচ্চারণ সহজ হয়। ভাষা সংক্ষিপ্ত হয় এবং শুনতে ভালাে লাগে। 

সন্ধিতে ধ্বনির চার ধরনের মিলন হয় : 

১. উভয় ধ্বনি মিলে একটি ধ্বনি হয়। 

২. একটি ধ্বনি বদলে যায়। 

৩. একটি ধ্বনি লােপ পায়। 

৪. উভয় ধ্বনির বদলে নতুন ধ্বনির সৃষ্টি হয়। 



বাংলা সন্ধি দু প্রকার : ১. স্বরসন্ধি, ২. ব্যঞ্জনসন্ধি। 

১. স্বরসন্ধি : স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনে যে সন্ধি হয়, তাকে স্বরসন্ধি বলে। যেমন : 

সােনা + আলি = সােনালি        রুপা + আলি = রুপালি 

মিথ্যা + উক = মিথুক             কুড়ি + এক = কুড়িক। 

নদী + এর = নদীর                  মা + এর = মায়ের 

ব্যঞ্জনসন্ধি : স্বরধ্বনির সঙ্গে ব্যঞ্জনধ্বনি কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে ব্যঞ্জনধ্বনি মিলিত হয়ে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে। যেমন :

 কাঁচা + কলা = কাঁচকলা        নাতি + বৌ = নাতবৌ 

ছােট + দা = ছােড়দা।             উৎ + চারণ = উচ্চারণ 

 আর + না = আন্না                  চার + টি = চাট্টি 

বাংলা ভাষায় অনেক সংস্কৃত শব্দ কোনাে রকম পরিবর্তন ছাড়া ব্যবহৃত হয়। এগুলােকে তৎসম শব্দ বলে। এসব তৎসম শব্দের সন্ধি সংস্কৃতের নিয়মেই হয়। তাই সংস্কৃতের নিয়ম মেনে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত তৎসম শব্দের সন্ধি ৩ প্রকার। যথা : ক. স্বরসন্ধি খ. ব্যঞ্জনসন্ধি ৩. বিসর্গসন্ধি 

ক. স্বরসন্ধি : সহজ সূত্র ও উদাহরণ 

১. অ, আ ধ্বনির সন্ধি 

               সূত্র                              উদাহরণ 

অ + অ = আ (া)                 নব + অন্ন = নবান্ন।             পরম + অণু = পরমাণু 

অ + আ = আ (া)               জল + আশয় = জলাশয়।     পাঠ + আগার = পাঠাগার 

আ + অ = আ (া)               কথা + অমৃত = কথামৃত       আশা + অতীত = আশাতীত 

আ + আ = আ (া)              বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়     মহা + আশয় = মহাশয় 

২. ই, ঈ ধ্বনির সন্ধি

ই + ই = ঈ (ী                      অতি + ই = অতীত                 রবি + ইন্দ্র    = রবীন্দ্র 

ই + ঈ = ঈ (ী)                    পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা            অধি + ঈশ্বর = অধীশ্বর 

ঈ + ই = ঈ (ী)                    শচী + ইন্দ্র = শচীন্দ্র                 মহী + ইন্দ্র = মহীন্দ্র 

ঈ + ঈ = ঈ (ী)                   শ্রী + ঈশ = শ্রীশ                     পৃথিবী + ঈশ্বর = পৃথিবীশ্বর 

৩. উ, ঊ ধ্বনির সন্ধি 

উ + উ = উ (‍ূ)                   কটু + উক্তি = কটুক্তি                 মরু + উদ্যান = মরুদ্যান 

উ + উ = ঊ (‍ূ)                   লঘু + ঊর্মি = লঘূর্মি                    বহু + ঊর্ধ্ব      = বহূর্ধ্ব 

উ + উ = ঊ (‍ূ)                   বধূ + উৎসব = বধূৎসব               বধূ + উক্তি = বধূক্তি

ঊ  + ঊ = উ (‍ূ)                   ভূ + ঊর্ধ্ব = ভূর্ধ্ব 



২. অ/আ, ই/ঈ ধ্বনির সন্ধি 

অ/আ + ই/ঈ = এ ( ে)      স্ব + ইচ্ছা = স্বেচ্ছা              যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট

                                           অপ + ঈক্ষা = অপেক্ষা     মহা + ঈশ্বর = মহেশ্বর 

৩. অ/আ, ই/উ ধ্বনির সন্ধি 

অ/আ + উ/ঊ = ও ( াে)   সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়        কথা + উপকথন = কথােপকথন 

                                          চল + উর্মি = চলোর্মি           মহা + ঊর্মি = মহাের্মি 

৪. অ/আ, ঋ ধ্বনির সন্ধি 

অ/আ + ঋ = অর (')         দেব + ঋষি = দেবর্ষি         রাজা + ঋষি = রাজর্ষি 

অ/আ + ঋত = আর         শীত + ঋত = শীতার্ত          ক্ষুধা + ঋত = ক্ষুধার্ত 



৫. অ/আ, এ/ঐ ধ্বনির সন্ধি 

অ/আ + এ/ঐ = ঐ  (ৈ)  জন + এক = জনৈক       তথা + এব = তথৈব     

                                         মত + ঐক্য = মতৈক্য     মহা + ঐশ্বর্য = মহৈশ্বর্য 

৬. অ/আ, ওঔ ধ্বনির সন্ধি 

অ/আ + ও ঔ = ঔ (ৗৈ)   জল + ওকা = জলৌকা      মহা + ওষধি = মহৌষধি 

                                         চিত্ত + ঔদার্য = চিত্তৌদার্য  মহা + ঔষধ = মহৌষধ 


৭. ইঈ-এর পর ভিন্ন ধ্বনির সন্ধি। 

ই/ঈ + অ/আ = য (্য ্যা)  অতি + অন্ত = অত্যন্ত      নদী + অম্বু = নদ্যম্বু

                                            ইতি + আদি = ইত্যাদি     মসী + আধার = মস্যাধার



ই/ঈ + উ উ = য (্যু /্যূ)   অতি + উক্তি = অত্যুক্তি     প্রতি + ঊষ = প্রত্যুষ 


ই/ঈ + এ = য (ে ্য)         প্রতি + এক = প্রত্যেক 



৮. উ/ঊ-এর পর ভিন্ন ধ্বনির সন্ধি 

উ/ঊ + অ/আ = ব/বা           সু + অল্প = স্বল্প                 সু + আগত = স্বাগত 

উ/ঊ + ই/ঈ  = বি/বী            অনু + ই = অন্বিত             তনু + ঈ = তন্বী 

উ/ঊ + এ = বে                     অনু + এষণ =অন্বেষণ 

৯. এ/ঐ-এর পর ভিন্ন ধ্বনির সন্ধি 

এ/ঐ + অ/আ = অয়/ আয়   নে + অন = নয়ন            নৈ + অক = নায়ক 

১০. ও/ঔ -এর পর ভিন্ন ধ্বনির সন্ধি 

 ও/ঔ + অ/আ = অব/আব     পাে + অন = পবন       গাে + আদি = গবাদি

                                               লাে + অন = লবণ         পৌ + অক = পাবক

 ও/ঔ + ই = অবি/আবি          পাে + ই = পবিত্র            নৌ + ইক = নাবিক 

ওঔ + উ = আবু                ভৌ + উ = ভাবুক 

ওঔ + এ = অবে                গাে + এষণা = গবেষণা 

খ. ব্যঞ্জনসন্ধি : পরিচিত সূত্র ও উদাহরণ 

১. স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনির সন্ধি 

অ + ছ = চ্ছ              প্র + ছ = প্রচ্ছদ 

আ + ছ =চ্ছ              কথা + ছলে = কথাচ্ছলে 

ই + ছ = চ্ছ               পরি + ছ = পরিচ্ছদ 

উ + ছ = চ্ছ               তরু + ছায়া = তরুচ্ছায়া 

ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনির সন্ধি 

ক + অ = গ              দিক্ + অন্ত = দিগন্ত 

ট + আ = ড ড়         ষট্ + আনন = ষড়ানন

ত + অ = দ               তৎ + অন্ত = তদন্ত

প+ অ = ব               সুপ্ + অন্ত = সুবন্ত 

৩.ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনির সন্ধি 

ত + চ ছ =চ্চ /চ্ছ       উৎ + চারণ = উচ্চারণ                উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ 

দ + চ ছ = চ্চ/চ্ছ       বিপদ + চয় = বিপজ্জয়              বিপদ + ছায়া = বিপচ্ছায়া

ত + জ ঝ = জ্জ/জ্ব   যাবৎ + জীবন = যাবজ্জীবন       কুৎ + ঝটিকা = কুক্কটিকা 

দ+ জ = জ্ব               বিপদ + জনক = বিপজ্জনক 

ত + ড = ড্ড             উৎ + ডীন = উড্ডীন 

ত + ল = ল্ল               উৎ + লিখিত = উল্লিখিত 

ত + শ = চ্ছ              চলৎ + শক্তি = চলচ্ছক্তি 

ত + হ = দ্ধ              তৎ + হিত = তদ্ধিত 

দ+ ই = দ্ধ               পদ + হতি = পদ্ধতি 

ক্ + দ = গ + দ      বাক্ + দান = বাগদান

কৃ + ব = গ + ব       দিক্ + বিজয় = দিগ্বিজয়

ট্+য=ড্ >ড়+য       ষট্ + যন্ত্র = ষড়যন্ত্র

ত্ + গ = দৃ + গ       উৎ + গিরণ = উদ্‌গিরণ

ত্ + ঘ = দৃ+ ঘ        উৎ + ঘাটন = উদ্‌ঘাটন

ত্ + ব = দৃ+ব         উৎ + বন্ধন = উদ্বন্ধন

ত্ + ভ = দৃ + ভ     উৎ + ভ = উদ্ভব

ত্ + র = দৃ+র        তৎ + রূপ = তদ্রুপ

ক্ +ন =ঙ+ন         দিক্ + নির্ণয় = দিকনির্ণয় 

ত্ +ন =ন+ম         তৎ + মধ্যে = তন্মধ্যে

ত্ +ন =  ন্ন           উৎ + নতি = উন্নতি      জগৎ + থ = জগন্নাথ 

ত্ +ন = ন্ম           তৎ+ ময় = তন্ময়          মৃৎ + ময় = মৃন্ময়

ম্ +ক= ঙ/ং+ক    শম্ + ক = শঙ্কা        সম্ + কীর্ণ = সংকীর্ণ 

ম্ +খ = ং+ খ       সম্ + খ্যা = সংখ্যা

ম্ +গ = ং+ গ      সম্ + গীত = সংগীত 

ম্ +ঘ =ং+ ঘ       সম্ + ঘাত = সংঘাত 

মৃ + চ = ঞ্চ           সম্ + চয় = সঞ্চয় 

ম্ +ত =ন্ত              সম্ + তাপ = সন্তাপ 

ম্ + দ = ন্দ            সম্ + দর্শন = সন্দর্শন 

ম্ + ধ = ন্ধ            সম্ + ধান = সন্ধান। 

মৃ + ন = ন্ন             কিম্ + নর = কিন্নর 

ম্ +য =ং+য          সম্ + যম = সংযম   

ম্ +র =ং+র          সম্ + রক্ষণ = সংরক্ষণ

ম্ +শ =ং+শ          সম্ + শয় = সংশয় 

ম্ +হ =ং+হ          সম্ + হার = সংহার  

৩.২ বিসর্গসন্ধি 

বিসর্গ (ঃ)-এর সঙ্গে স্বরধ্বনি কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয়, তাকে বিসর্গসন্ধি বলে। উচ্চারণের দিক থেকে বিসর্গ দু রকম : 

১. র্-জাত বিসর্গ : শব্দের শেষে র থাকলে উচ্চারণের সময়  র্ লােপ পায় এবং  র্-এর জায়গায় বিসর্গ (ঃ) হয়। উচ্চারণে র্ বজায় থাকে। যেমন : অন্তর > অন্তঃ + গত = অন্তর্গত (অনতোরগতো)। 

৬. স্-জাত বিসর্গ : শব্দের শেষে স্ থাকলে সন্ধির সময় স্ লােপ পায় এবং স্-এর জায়গায় বিসর্গ (ঃ)  হয়। উচ্চারণে সৃ বজায় থাকে। যেমন : নমস্ > নমঃ + কার = নমস্কার (নমোশকার)। 

বিসর্গসন্ধি দু-ভাবে সাধিত হয় : ১. বিসর্গ (ঃ) ও ধ্বনি মিলে 

                                                       ২. বিসর্গ (ঃ) ও ব্যঞ্জনধ্বনি মিলে। 

১. বিসর্গ ও স্বরধ্বনির সন্ধি 

ক. অ-ধ্বনির সঙ্গে বিসর্গ এবং পরে অ-ধ্বনি থাকলে বিসর্গ ও অ-ধনি স্থলে ও-কার হয়। যেমন : 

         ততঃ + অধিক = ততােধিক          যশঃ + অভিলাষ = যশােভিলাষ 

         বয়ঃ + অধিক = বয়ােধিক 

খ. অ-ধ্বনির সঙ্গে বিসর্গ এবং পরে অ, আ, উ-ধ্বনি থাকলে বিসর্গ ও অ-ধ্বনি মিলে র হয়। যেমন : 

            পুনঃ + অধিকার = পুনরধিকার    প্রাতঃ + আশ = প্রাতরাশ 

           পুনঃ + আবৃত্তি = পুনরাবৃত্তি        পুনঃ + উক্ত = পুনরুক্ত 

২. বিসর্গ ও ব্যঞ্জনধ্বনির সন্ধি 

ক. অ-ধ্বনির সঙ্গে বিসর্গ এবং পরে বর্গের ৩য় / ৪র্থ / ৫ম ধ্বনি অথবা য, র, ল, হ থাকলে বিসর্গ ও অ-ধ্বনি স্থলে র-জাত বিসর্গের/ রেফ () এবং স-জাত বিসর্গে ও-কার হয়। 

যেমন : র-জাত বিসর্গ :র 

                   অন্তঃ + গত = অন্তর্গত          পুনঃ + জন্ম = পুনর্জন্ম 

                   অন্তঃ + ধান = অন্তর্ধান          পুনঃ + বার = পুনর্বার 

                   অন্তঃ + ভুক্ত = অন্তর্ভুক্ত         পুনঃ + মিলন = পুনর্মিলন 

স-জাত বিসর্গ : ও 

ক.            মনঃ + গত = মনােগত               সদ্যঃ + জাত = সদ্যোজাত 

                 তিরঃ + ধান = তিরােধান            তপঃ + বন = তপােবন 

                 অধঃ + মুখ = অধােমুখ              মনঃ + যােগ = মনােযােগ 

                 মনঃ + রম = মনােরম                মনঃ + লােভা = মনােলােভা 

                 মনঃ + র = মনােহর 


বিসর্গের পরে চ/ছ থাকলে বিসর্গের স্থলে ; ট/ঠ থাকলে ষ এবং ত/থ থাকলে স হয়। যেমন : 

                  নিঃ + চয় = নিশ্চয়                      শিরঃ + ছেদ = শিরচ্ছেদ 

                  দুঃ + চরিত্র = দুশ্চরিত্র                 নিঃ + ছিদ্র = নিচ্ছিদ্র 

                  ধনুঃ + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার             নিঃ + ঠুর = নিষ্ঠুর

                  চতুঃ + টয় = চতুষ্টয় 

                  দুঃ + তর = দুস্তর                          নিঃ + তেজ = নিস্তেজ 

                 ইতঃ + তত = ইতস্তত                    দুঃ + থ = দুস্থ 

গ. অ/আ ভিন্ন অন্য স্বরের সঙ্গে বিসর্গ এবং পরে স্বরধ্বনি, বর্গের ৩য় / ৪র্থ / ৫ম ধ্বনি অথবা য, র, 

ল, হ থাকলে বিসর্গ স্থলে র হয়। যেমন : 

                  নিঃ + অবধি = নিরবধি                নিঃ + আপদ = নিরাপদ 

                  নিঃ + গত = নির্গত                      নিঃ + ঘণ্ট = নির্ঘণ্ট 

                  নিঃ + বাক = নির্বাক                    নিঃ + ভয় = নির্ভয় 

                 আবিঃ + ভাব = আবির্ভাব             আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ 

                 দুঃ + অবস্থা = দুরবস্থা                  দুঃ + আচার = দুরাচার 

                 দুঃ + গতি = দুর্গতি                       দুঃ + বােধ = দুর্বোধ 

                 প্রাদুঃ + ভাব = প্রাদুর্ভাব               দুঃ + মর    = দুর্মর 

                 দুঃ + যােগ = দুর্যোগ                     দুঃ + ভ = দুর্লভ 


ঘ.  র-জাত বিসর্গের পরে র থাকলে বিসর্গ লােপ পায় এবং প্রথম স্বর দীর্ঘ হয়। যেমন : 

                 নিঃ + রব = নীরব                         নিঃ + রস = নীরস 

                 নিঃ + রােগ = নীরােগ 

ঙ.  অ/আ ধ্বনির সঙ্গে বিসর্গ এবং পরে ক, খ, প, ফ থাকলে বিসর্গ স্থলে স হয়। যেমন : 

               নমঃ + কার = নমস্কার                   তিরঃ + কার = তিরস্কার 

               পুরঃ + কার = পুরস্কার                   ভাঃ + কর = ভাস্কর 

চ.  ই/উ ধ্বনির সঙ্গে বিসর্গ এবং পরে ক, খ, প, ফ থাকলে বিসর্গ স্থলে ষ হয়। যেমন : 

               নিঃ + কাম = নিষ্কাম                     নিঃ + পাপ = নিষ্পাপ 

               নিঃ + ফল = নিষ্ফল                      বহিঃ + কার = বহিষ্কার 

               চতুঃ + পদ = চতুষ্পদ                   চতুঃ + কোণ = চতুষ্কোণ 

              আবিঃ + কার = আবিষ্কার              দুঃ + পাচ্য = দুম্পাচ্য 

ছ.  কোনাে কোননা ক্ষেত্রে সন্ধির বিসর্গ লােপ পায় না। যেমন : 

              প্রাতঃ + কাল = প্রাতঃকাল             মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট 

              শিরঃ + পীড়া = শিরঃপীড়া             অন্তঃ + করণ = অন্তঃকরণ 

জ. কোনাে কোনাে ক্ষেত্রে সন্ধির বিসর্গ লােপ পেলেও সন্ধি হয় না। যেমন : 

               অতঃ + এব = অতএব 

বিসর্গ সন্ধির কিছু ব্যতিক্রম : 

                অহঃ + অহ = অহরহ     অহঃ + নিশা= অহর্নিশ 

৩.৩ কর্ম-অনুশীলন 

১. সতী ঈশ বাবু মাধ্যমিক বিদ্যা আলয়ের শিক্ষক। তার অহম্ কার নেই, তিনি সম্ গীত ভালােবাসেন। 

– উদ্ধৃতাংশে মােটা দাগ দেয়া শব্দগুলাের সন্ধি কর। তােমার পছন্দমতাে এ রকম আরও কয়েকটি শব্দের বাক্য লেখ। 

২. তুমি আজ সারা দিন যাদের কথাবার্তা শুনেছ, সেসব কথার মধ্যে থেকে মনে করে ১০টি সন্ধিবদ্ধ 
শব্দ বের কর। তারপর সেগুলােকে আলাদা করে কোন প্রকার সন্ধি তা লেখ। যেমন: তােমার বাবা বললেন, “দোকান থেকে পাঁশসের আলু, গােটা পাঁচেক কাঁচকলা আর এক কৌটা গব্য-ঘৃত নিয়ে এস তাড়াতাড়ি। দেখ, যেন বেশকম না হয়।” – এখানে সন্ধিবদ্ধ শব্দগুলাে হচ্ছে— 



পাঁশসের, পাঁচেক, কঁচকলা, গব্য, বেশকম। 

পাঁশসের = পাঁচ + সের = ব্যঞ্জনসন্ধি 

পাঁচেক = পাঁচ + এক = ব্যঞ্জনসন্ধি 

কাঁচকলা = কাঁচা + কলা = ব্যঞ্জনসন্ধি 

গব্য = গ + য = ব্যঞ্জনসন্ধি 

বেশকম = বেশি + কম = ব্যঞ্জনসন্ধি 

৩. বহিষ্কার, আবিষ্কার, নমস্কার, পুরস্কার শব্দগুলাে সন্ধির কোন নিয়ম মেনে গঠিত হয়েছে? নিয়মগুলাে লেখ এবং সে নিয়ম অনুযায়ী তােমার পাঠ্য বই থেকে আরও কয়েকটি শব্দ খুঁজে নিয়ে একটি তালিকা তৈরি কর। 


  • 0Blogger Comment
  • Facebook Comment

Post a Comment